জুয়েল মিয়া ভৈরব,কুলিয়ারচর,কিশোরগঞ্জ,
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পাড়ার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিএনপি ও শ্রমিক দলের দুই নেতাসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে।
জানা যায়, ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি মধ্যপাড়া গণি ফকিরের মাজার সংলগ্ন কুলিয়ারচর-দ্বাড়িয়াকান্দি রাস্তার উপর দ্বাড়িয়াকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাকিম মিয়া (৩৫) ও দ্বাড়িয়াকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো.কাউসার মিয়া (৪৫) দ্বয়ের মধ্যকার ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দ্বাড়িয়াকান্দি পূর্বপাড়া ও মধ্যপাড়া দুই গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দ্বাড়িয়াকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (২৮), অভি মিয়ার ছেলে মোখলেছুর রহমান (৩০) ও মৃত মুক্তার মিয়ার ছেলে আল আমিন (৩৮) আহত হয়।
অপর দিকে দ্বাড়িয়াকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. নাছির উদ্দিন (৪২) ও বাছির উদ্দিন (৩৮) সহ ৩ জন আহত হয়।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দ্বাড়িয়াকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামের হামলাকারীদের আঘাতে দ্বাড়িয়াকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. মোসলিম উদ্দিন রতন (৫০) গুরুতর আহত হয়। একই সাথে ওই গ্রামের আক্তার উদ্দিনের ছেলে উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. বোরহান উদ্দিন (৩৬) ও গুরুতর আহত হয়।
আহতদের মধ্যে মো. মোসলিম উদ্দিন রতন-কে স্থানীরা উদ্ধার করে প্রথমে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরন করেন। রতনের অবস্থা আশংকাজন দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরন করেন। সেখান থেকে তাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এভার কেয়ার হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়।
অপর দিকে স্থানীয়রা আহত নাসির উদ্দিন-কে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরন করেন। তার অবস্থা আশংকাজন দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরন করেন।
অন্যান্য আহতের মধ্যে মো. বোরহান উদ্দিন, মো. মনির মিয়া, মোখলেসুর রহমান ও বাছির উদ্দিনকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে স্থানীয়রা। আহত আল আমিন প্রথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মোসলিম উদ্দিন রতনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মোসলিম উদ্দিন রতন দুইপক্ষের ঝগড়ার খবর পেয়ে দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে যান। এসময় দ্বাড়িয়াকান্দি মধ্যপাড়ার হামলাকারীদের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তার অবস্থা আশংকাজনক।
এলাকাবাসী জানান, এর আগের দিন ২২ এপ্রিল বুধবার মো. কাউসার মিয়ার ছেলে অটোরিকশা চালক তুহিন (২২) ও মো. হাকিম মিয়ার গ্যারেজের অটোরিকশা ভাড়াটিয়া ও চালক তাসিন (১৮) দের মধ্যে ঝগড়া হয়। উক্ত ঝগড়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মো. হাকিম মিয়া (৩৫) ও মো. কাউসার মিয়া (৪৫) দ্বয়ের মধ্যে পুনরায় ঝগড়া থেকে এ সংঘর্ষের রুপ নেয়।
এব্যাপারে আহত উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. বোরহান উদ্দিন কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে অভিযোগ করে বলেন, আমি দুই পক্ষের ঝগড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের ঝগড়া থামাতে গেলে মধ্যপাড়া গ্রামের লোকজন আমার উপর হামলা করে। বর্তমানে তারা আমার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। আমাদের বাড়িঘর নাকি জালিয়ে পুড়িয়ে দিবে তারা।
এব্যপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ঘটনায় কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।