মোহাম্মদ মোঃজুয়েল মিয়া ভৈরব (কিশোরগঞ্জ):
ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের গকুলনগর বাজারে।
সোমবার ২০ এপ্রিল বিকেলে গকুলনগর বালির মাঠে গকুলনগর বাজার কমিটির উদ্যোগে চুরি, ডাকাতি ও মাদক নির্মূলে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ ওপ্রতিরোধ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এলাকাবাসী অপরাধের বিরুদ্ধে জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের যেখানে চুরি ডাকাতি ছিনতাই মাদক সেখানেই প্রতিবাদে গকুলনগরএলাকাবাসী
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ আতিকুল ইসলাম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগানগর ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি ও বাজার কমিটির কোষাধ্যক্ষ পল্লী চিকিৎসক ফিরোজ মিয়া সঞ্চালনায় পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব হোসেন, দপ্তর সম্পাদক কবির হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক মনির মোল্লা এবং জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী ইউনিয়নের সভাপতি জামাল মোল্লা প্রমুখ।
সভায় বক্তারা সাম্প্রতিক একটি চুরির ঘটনার উল্লেখ করেন। গত শুক্রবার গভীর রাতে গকুলনগর বাজারের মুদির দোকানদার কেবলো মিয়ার দোকানে চুরির সময় ছাগাইয়া গ্রামের হক মিয়ার ছেলে জুম্মান (১৯) হাতেনাতে আটক হয়। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে কিছু চোরাই মালামালও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কেবলো মিয়া ভৈরব থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, অনেক সময় চোরচক্রের সদস্যরা প্রভাবশালী পরিবার কিংবা প্রভাবশালী বংশের হওয়ায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করতে ভয় পান, এমনকি প্রত্যক্ষদর্শীরাও সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। এই ভয়ই যেন অপরাধীদের জন্য এক অদৃশ্য ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সভায় আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, “অপরাধ দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নির্ভর করলে চলবে না, সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম মামুনুর রশীদ এবং ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এতে এলাকায় সক্রিয় চিহ্নিত ছিনতাইকারী, চোর, গরু চোর, ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা সংযুক্ত থাকবে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, “অপরাধ একটি আগাছার মতো—যতদিন না তা শিকড়সহ উপড়ে ফেলা যায়, ততদিন তা নতুন করে জন্ম নিতেই থাকবে।” তাই এই আগাছা নির্মূলে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ।
গকুলনগর বাজারের এই উদ্যোগ যেন একটি ছোট প্রদীপ, যা অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জ্বলে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়—এই আলো কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো সমাজে, আর অপরাধের অন্ধকার কতটা পিছু হটে।