ভৈরব প্রতিনিধিঃ
ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের টুকচানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাজী আব্দুল মালেক মিয়া,কর্মজীবনের শেষ দিনে তাঁকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ,সহকর্মী,শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার(২৯ অক্টোবর)বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়,ফুলেল শুভেচ্ছা, উপহার ও ভালোবাসায় সিক্ত বিদায়ী শিক্ষককে ঘিরে অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো.শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) কে.এম.মামুনুর রশীদ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান, ভৈরব উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন সুজন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ভৈরব শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য মো. আলাল উদ্দিন,আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.মতিউর রহমান এবং ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো.হুমায়ূন কবীর,অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক মো. ছামিদ মিয়া।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে হাজী আব্দুল মালেক মিয়াকে ফুলের তোড়া ও বিভিন্ন উপহার দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। এ সময় তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তাঁর অবসরজীবনের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদায়ী শিক্ষককে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া। অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তাঁকে ঘোড়ার গাড়িতে তুলে ফুল ছিটিয়ে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও মানুষ গড়ার কাজে অবদান রাখা একজন শিক্ষককে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় জানানোয় স্থানীয়দের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের মতে, এ আয়োজন শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্কের এক সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ভালোবাসা ও সম্মানের এমন রাজকীয় বিদায় হাজী আব্দুল মালেক মিয়ার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।