ভৈরব কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
১০ মার্চ ২০২৬ (মঙ্গলবার): পবিত্র রমজানের রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের আবহে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান। যেন রমজানের শান্ত স্নিগ্ধ বাতাসে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য আর ঐক্যের বার্তা নিয়ে একত্রিত হয়েছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, উলামায়ে কেরাম, সাংবাদিক ও সুধীজন।
ভৈরব প্যালেস পার্টি সেন্টারে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ভৈরব উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ইফতার মাহফিল যেন হয়ে উঠেছিল সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ভৈরব উপজেলার অন্যতম উপদেষ্টা মুফতি আবু মুসা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, “জনগণের রায় ও গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” তিনি আগামী ২৪ এপ্রিল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য গণসমাবেশ সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, ন্যায় ও নৈতিকতার পথে চলার শিক্ষা দেয়। তাই দেশের কল্যাণ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র হাজী মুহাম্মদ শাহিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভৈরব পৌর শাখার সাবেক সেক্রেটারি আব্দুল কাইয়ুম, খেলাফত মজলিস ভৈরব উপজেলা সভাপতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাহেল, এনসিপির শরীফুল হক জয়, ভৈরব পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ইমতিয়াজ আহমদ কাজল, খেলাফত মজলিস ভৈরব উপজেলার সহ-সভাপতি মাওলানা মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কবীর আহমদ, গজারিয়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসহাক, আগানগর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ আলম শিকদার, শিমুলকান্দী ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, যুব মজলিস কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা উসমান গনি এবং খেলাফত ছাত্র মজলিস কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি মুহাম্মদ মুজাক্কির আহমদ।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, উলামায়ে কেরাম, সুধীজন, দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
রমজানের পবিত্র সাঁঝবেলায় যেন এক টেবিলে বসেছিল ভিন্ন মতের মানুষ—যেন ভ্রাতৃত্বের একই সুতোয় গাঁথা মুক্তোর মালা। ইফতার মাহফিলটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজনই নয়, বরং পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সংহতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ভৈরবের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে।