কিশোরগঞ্জ ভৈরব প্রতিনিধঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন স্যাম্পল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে চারটি ফার্মেসিকে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক। অভিযানে সহযোগিতা করে কিশোরগঞ্জ জেলা ড্রাগ সুপার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, জেলা ড্রাগ সুপার কার্যালয়ে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকার একাধিক ফার্মেসিতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় চারটি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুদ ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি কিছু ফার্মেসিতে চিকিৎসকদের জন্য সরবরাহকৃত স্যাম্পল ওষুধ বিক্রির ঘটনাও ধরা পড়ে, যা আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অভিযান চলাকালে আরও দেখা যায়, কয়েকটি ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় ড্রাগ লাইসেন্স প্রদর্শন করা হয়নি। এসব অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের কার্যক্রম ওষুধ ও প্রসাধনী আইন, ১৯৪০ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার বিভিন্ন ধারার লঙ্ঘন। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক বলেন,
“মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্যাম্পল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক মামলায় মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা সহ্য করা হবে না। ফার্মেসি মালিকদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ভৈরবের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকলে ওষুধ বিক্রিতে অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ চিকিৎসা সেবা