ভৈরব প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় পর্যটকবাহী একটি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এক সদস্যের পরিবারসহ ছয়জন নিখোঁজ ও একজনের লাশ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ভৈরবে মেঘনা নদীর পাশাপাশি থাকা তিনটি সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ভৈরব হাইওয়ে থানার কনস্টেবল মোহাম্মদ সোহেল ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা আছেন। এ ছাড়া ভৈরবের শিমুলকান্দি ইউনিয়নের বাঘাইকান্দি গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন ওএক তরুণকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেঘনা নদীর ভৈরব এলাকায় পাশাপাশি দুটি রেল ও একটি সড়ক সেতু আছে। তিনটি সেতু ঘিরে ভৈরব প্রান্তে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। শুক্রবার বিকেল দিকে একটি নৌকায় ১২ থেকে ১৫ জন দর্শনার্থী যাত্রা করেন। মাঝনদীতে যাওয়ার পর কয়েকজন যাত্রী ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন তিনি বইঠা ছেড়ে ছবি তুলে দিচ্ছিলেন। এ সময় নৌকাটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। তখন বিপরীত দিক থেকে আসা বাল্কহেডের ধাক্কায়এ ঘটনা ঘটে
আজ ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সাজু মিয়া ফায়ার সার্ভিস কে লোকেশন দেওয়ার পর আরও দুই জনের লাশ উদ্ধার করা কাজ সক্ষম হয় । এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিন জন হয়েছে। এখনো নিখোঁজ পাঁচজন জন।
আজ শনিবার বেলা ২টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব সংলগ্ন দুর্ঘটনাস্থলের কাছে নদী থেকে এক নারী ও এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক এনামুল হক, তবে লাশ উদ্ধার হওয়া দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করে তিনি।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব সংলগ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আজিজুল হক রাজন।
তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভৈরব ব্রিজের নীচ থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদীতে ঘুরতে বের হন কয়েকজন। ইফতারের আগ মুহূর্তে ট্রলারটি চরসোনারামপুর এলাকায় পৌঁছালে একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়।
এ সময় ১২ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আটজন নিখোঁজ হন। পরে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকিরা নিখোঁজ ছিলেন।
তারা হলেন- ভৈরব হাইওয়ে থানার কনস্টেবল সোহেল রানা তার স্ত্রী মৌসুমি তাদের মেয়ে মাহমুদা ও ছেলে রায়সুল আরাদ্ধ, বেলাল দে ও আনিকা আক্তার।
মেঘনায় ট্রলার ডুবিতে নিহত বেড়ে ৩, নিখোঁজ এখনও ৫
স্টেশন অফিসার রাজন আরও জানান, খবর পেয়ে ভৈরব ফায়ার সার্ভিস ও নৌফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে বেশি রাত হওয়ায় উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখা হয়।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু জর গিফারী বলেন, কিশোরগঞ্জ থেকে রাতেই পাঁচ জনের ডুবুরিদল ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। শনিবার সকাল ৬টা থেকেই তারা নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে অভিযান শুরু করেছেন।
তবে মেঘনা নদীতে স্রোতের তীব্রতায় উদ্ধার কাজে বেগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।শুধু তাই নয় কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ পিপিএম বার তিনি বক্তব্যে জানান মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা চলবে একটি মরদহ উদ্ধার করার আগ পর্যন্ত
ও ভৈরব উপজেলার নির্বাহী অফিসার জানান, সর্বশেষ পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা থাকবে, ভৈরব নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান নিখোঁজএ ব্যাপারে বক্তব্যে যা বলেন বিস্তারিত ভিডিওতে। আজকের সর্বশেষ খবর স্বজনদের আহাজারিও শুক্রবারে একজন নারীকে উদ্ধার করা হয় আজ শনিবার দুপুর ২ টার দিকে দুইজনকে উদ্ধার করা হয় বিস্তারিত ভিডিওতে জুয়েল স্বাধীন বাংলা ফেসবুক পেইজে