জুয়েল,ভৈরব,প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেলো একটি তাজা প্রাণ। যেন অন্ধকার ভোরে হঠাৎ ঝড়ে নিভে যাওয়া একটি প্রদীপ—এভাবেই শেষ হলো পিকআপচালক মো. মিরাজ (৪১)-এর জীবনের পথচলা।
রবিবার (২৯ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের শম্ভুপুর এলাকায় ঢাকাগামী একটি পিকআপ ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি ছিল এতটাই ভয়াবহ যে, পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়—যেন লোহার শরীরও সেই আঘাত সহ্য করতে পারেনি।
নিহত মো. মিরাজ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন দনিয়া দক্ষিণ কুতুবখালী এলাকার বাসিন্দা এবং শাহজাহান শেখের ছেলে। জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামা এই পরিশ্রমী মানুষটির শেষ গন্তব্য হয়ে দাঁড়ালো সেই সড়কই, যেখানে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে চলেন হাজারো চালক।
স্থানীয়দের দ্রুত সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় মিরাজকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়, যা সড়ক নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
খবর পেয়ে ভৈরব হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ জব্দ করে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই দুর্ঘটনা যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—আমাদের সড়কগুলো কেবল পথ নয়, অনেক সময় তা হয়ে ওঠে অনিরাপদ জীবনের পরীক্ষা ক্ষেত্র। প্রতিটি অসতর্কতা, প্রতিটি অবহেলা কেড়ে নিতে পারে একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি সন্তানের আশ্রয়, একটি মায়ের শেষ ভরসা।
সড়কে শৃঙ্খলা ও সচেতনতা এখন সময়ের দাবি—কারণ একটি জীবন হারানো মানেই একটি পৃথিবী হারিয়ে যাওয়া।