ভৈরব প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের বন্দরনগরী ভৈরব-এ তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপ নেয় ভয়াবহ সংঘর্ষে। পুলতাকান্দা উত্তর পাড়া গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অন্তত ৪ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ জুমার নামাজের সময় একটি সামান্য বিষয়—বসতবাড়ির বাথরুমের ময়লা খোলা জায়গায় ফেলা—নিয়ে শুরু হয় কথা-কাটাকাটি। কাদির মিয়ার ছেলে মনির হোসেন ও পাশের বাড়ির মোবারক হোসেনের ছেলে বাবুল মিয়ার মধ্যে তর্কের ঝড় ধীরে ধীরে রূপ নেয় সংঘর্ষের আগুনে। যেন একফোঁটা স্ফুলিঙ্গ মুহূর্তেই দাবানলে পরিণত হলো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তর্কের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বাবুল মিয়া গুরুতর আহত হন এবং তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার চাচাতো ভাই মাসুমের হাতের আঙুল কেটে যাওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে গুরুতর অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়।
আহত বাবুল মিয়ার চাচা, সাংবাদিক এম এ হালিম অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের হামলায় তার স্বজনরা গুরুতর জখম হয়েছেন এবং নারীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তাকেও হুমকির মুখে পড়তে হয়।
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ কাদির মিয়ার পরিবার পাল্টা অভিযোগ করে জানায়, বাবুল মিয়াই প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায় বাড়িঘর ভাংচুর করে এবং ঘরে ঢুকে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুট করে।
ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভৈরব থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক রাকিব বিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে আতঙ্ক ও উদ্বেগের ছায়া। একটি সামান্য বিষয় কীভাবে মুহূর্তেই সহিংসতার রূপ নেয়—তারই যেন আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো এই ঘটনা। এখন উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একটি ছোট ভুল বোঝাবুঝি, একটি অযাচিত রাগ—এগুলোই কখনো কখনো মানুষের মাঝে দেয়াল তুলে দেয়। যেখানে দরকার ছিল সংলাপ, সেখানে জ্বলে উঠেছে সংঘর্ষের আগুন। ভৈরবের এই ঘটনা যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সহনশীলতা আর বোঝাপড়াই পারে সমাজকে সত্যিকারের শান্তির পথে এগিয়ে নিতে।