ভৈরব প্রতিনিধিঃ
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিগত দেড় যুগের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে উজ্জীবিত অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। মাত্র ৪ মাস সময়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারামুক্ত হয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে; একের পর এক মামলা থেকে খালাস পেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে; নেতাকর্মীরাও রাজনৈতিক মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছেন। সব মিলিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে।
বিরাজনীতিকরণের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সফল কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হাজী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম । তিনি ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক । দেশের রাজনীতির ক্রান্তিলগ্নে ও দুঃসময়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা বিএনপির হাল ধরে মাঠে ছিলেন সক্রিয়। দলের বিভিন্ন দিবস, সভা-সমাবেশও করেছেন নেতাকর্মীদের নিয়ে। এবার এই নেতাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনছেন নির্যাতিত নেতাকর্মীরা।
দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত ১৬ বছর দলের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। এসবের মধ্যে পাশে থেকে হাজী আরিফুল ইসলাম দিয়েছেন সাহস। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সফল সভাপতি সিআইপি শরীফুল আলম এর বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে শরীফুল আলম এর অর্থায়নে কারাবন্দী নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের দায়িত্বসহ দলের নেতাকর্মীদের কারামুক্তির ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।
দেশের রাজনীতির ক্রান্তিলগ্নে ও দুঃসময়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা বিএনপির হাল ধরে মাঠে ছিলেন সক্রিয়। দলের বিভিন্ন দিবস, সভা-সমাবেশও করেছেন নেতাকর্মীদের নিয়ে। এবার এই নেতাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনছেন নির্যাতিত নেতাকর্মীরা। তাদের আশা দল থাকে নিরাশ করবে না দুঃসময়ের এই নেতাকে। আগামীতে কিশোরগঞ্জ জেলার বন্দরনগরী ভৈরব উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবেও দেখতে চান তারা,নেতা কর্মীদের অভিযোগ,বিগত ১৬ বছর ধরে এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন অনেক নেতা। অনেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে আপোষ করে ব্যবসা-বানিজ্যে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। বিএনপির পরিচয় পর্যন্ত দেননি। ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা মিথ্যা মামলা নিয়ে আদালত পাড়ায় ঘুরেছেন, খবর পর্যন্ত নেননি কেউ। ভৈরব উপজেলার ৭ ইউনিয়নসহ পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সফল সভাপতি সংসদীয় আসন কিশোরগঞ্জ ৬ (ভৈরব কুলিয়ারচর উপজেলার) নয়নের মণি মানবতার ফেরিওয়ালা সিআইপি শরীফুল আলম এর সাথে আসা-যাওয়া করেছেন,
নেতাকর্মীদের এমন আশা এবং অতীত-বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে শনিবার (৯ নভেম্বর ) সন্ধ্যায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও অনলাইন মিডিয়া এস এ নিউজ টুয়েন্টি ফোর বিডির সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন ভৈরব উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ।
হাজী আরিফুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন দেশের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে অপশক্তিরা ষড়যন্ত্র শুরু করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে বিতর্কিত করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। শেষে ২০০৮ সালে প্রহসনের নির্বাচনে দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে জোর করে নির্বাচনে হেরে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন,অপশক্তির কাছে হেরে যায় গণতন্ত্র, এরপর থেকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের উপর চালানো হয় জেল জুলুম নির্যাতন। গণতন্ত্রের সূর্যসন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান খুকুকে পাঠানো হয় নির্বাসনে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে করা হয় কারাবন্দি। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার তিলে-তিলে শেষ করতে চেয়েছিলো জিয়া পরিবারকে। কিন্তু জনগণ ও সৃষ্টিকর্তার রহমতে এবং জিয়ার সৈনিকদের অবিচল আস্থার কারণে আজ দেশ মুক্ত, দেশের গণতন্ত্র মুক্ত।
বিগত ১৬ বছরে দেশে কোন সুষ্ট নির্বাচন হয়নি বলে উল্লেখ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, দিনের ভোট হতো রাতে, হাজার হাজার বিএনপির নেতাকর্মী হত্যা গুম করা হয়েছে। বিনা চিকিৎসায় খালেদা জিয়াকে কারগারে মেরে ফেলতে চেয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান ও কনিষ্ট পুত্র আরাফাত রহমান খুকুকে ক্ষমতাসীন মঈন উদ্দিন-ফকরুদ্দীনের নির্মম নির্যাতনের পর চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়। সেখানে আরাফাত রহমান খুকু শহীদ হন। খুকুর লাশ যখন দেশে আনা হল তখন স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার ক্ষমতায়। অথচ ভাইয়ের জানাজায়ও অংশ নিতে দেননি তারেক রহমানকে। এর চেয়ে নির্মম আর কি হতে পারে!
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান আর খালেদা জিয়া মা ছেলের দেখা হয়নি ১৬ বছর ধরে। বিরোধীদল গুলোর উপর নির্যাতন চালিয়ে কন্ঠরোধ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলে রাজাকারের ট্যাক লাগানো হয়েছে, উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সর্বশেষ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় স্বৈরাশাসক শেখ হাসিনা।
হাজী আরিফুল ইসলাম আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতি করেছি। আমার কাছে পদের চেয়ে দল বড়। বিএনপি আমার পরিবার, রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে দেশ মাতা খালেদা জিয়াকে দেশের সর্ব্বোচ্চ সম্মানে যতদিন নিতে পারবো না, ততদিন আমি রাজপথ ছাড়ব না।