ভৈরব প্রতিনিধিঃআ
জ ৯ নভেম্বর শনিবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর মোল্লা বাড়ীর তাপস মিয়া, পলাশ মিয়া,আলভী মিয়ার নেতৃত্বে সঙ্গীয় লোকজন নিয়ে পুর্ব শত্রুতার জেরে ভৈরব পৌর শহরের সিলেট বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত কামাল মিয়ার মালিকানাধীন অনিক হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র সজ্জিত হয়ে বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট খাবারে বিষ প্রয়োগ করে এবং দোকানের ছাই দ্বারা খাবার বিনষ্ট করার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে ।
এব্যাপারে হোটেল মালিক কামাল মিয়া বলেন,
হামলাকারী তাপস একদলভুক্ত ধূর্ত প্রতারক প্রকৃতির লোক তার মেয়ে তানহা বেগম এর সাথে আমার বড় ছেলে ইতালী প্রবাসী দিনার মিয়া এর সহিত ২ বছর আগে পারিবারিক ভাবে মোবাইল ফোনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিবাহের পর জানতে পারি যে, ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দির জৈনক এক ছেলের সাথে হামলাকারী তাপসের মেয়ে তানহা বেগমের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। উক্ত ঘটনা জানার পর উভয় পক্ষের মান-ইজ্জতের বিবেচনায় আমার ছেলে দেশে ফেরত আসিলে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। পরে তাপস অনুষ্ঠান করার জন্য আমার কাছ হতে নগদ চার লক্ষ টাকা নেয়। বিয়ের পর আমার ছেলে ও তাপসের মেয়ে কক্সবাজার হানিমুনে যায়। কক্সবাজার হোটেলে থাকা কালীন সময়ে শিমুলকান্দির জৈনক প্রেমিকের সাথে তানহা বেগমের অনৈতিক সম্পর্কের সময়, প্রেমিকসহ আমার ছেলের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে। অনৈতিক সম্পর্কের জেরে আমার ছেলে তার স্ত্রীকে হোটেলে মারধর করে।
কক্সবাজার হোটেলে তানহা বেগমের অনৈতিক কর্মকান্ডে ধরা পড়া ও তানহা বেগমকে আমার ছেলে মারধর করায় উভয় পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। অতপর বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য সালিশী আলোচনা করা হয়। উক্ত সালিশী আলোচনায় কাবিননামায় উল্লেখিত মূল্য ছয় লক্ষ টাকা আমি পরিশোধ করি। আমার ছেলেও ইতালীতে চলে যায়।
বিগত তিন মাস আগে আমার ছেলে দেশে ফেরত আসে। উপরোক্ত ঘটনাবলীর পর আমার ছেলে দিনার মিয়া ও তানহা বেগম পুনরায় স্বামী ও স্ত্রীর মত একসাথে সংসার শুরু করে। পরে আত্মীয় স্বজনদের পরামর্শে আমি তাদের সংসার যাতে টিকে থাকে, সেজন্য সম্মত প্রদান করি। বিগত ২ মাস আগে তাপসের মেয়ে তানহা বেগম অন্য এক পরপুরুষের সাথে চলে যায়। চলে যাওয়ার সময় এগারো ভরি স্বর্ণ ও নগদ দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকাসহ নিয়ে যায়। উক্ত চলে যাওয়ার ঘটনাটি সকলেই অবগত করি। তানহা বেগম অবৈধ যৌন প্রমিকের সাথে চলে যাওয়ার ১২ দিন পর আমার ছেলে তানহা বেগমকে ফেরত নিয়ে আসে। উক্ত ঘটনাটি আমি জানার পর, সামাজিক ভাবে মান-সম্মানহানীর কারণে আত্মত্মীয়-স্বজনকে অবগত করিয়া আমার ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র করে দেয় এবং আমার বাড়ি হতে বের করে দেয়।
তাপসের মেয়ে তানহা বেগম ও আমার ছেলে দিনার মিয়া পুনরায় অন্যত্র থাকিয়া সাংসার করিতেছে জানতে পারি। বিগত ১ মাস আগে তানহা বেগমের পাঁচ ছয় জন ছেলের সাথে অনৈতিক ও উলঙ্গ ভিডিও এভং ছবি আমার ছেলে দিনার মিয়া দেখতে পেয়ে তানহা বেগমকে মারধর করে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে দিনার মিয়া তানহা বেগমকে মারধর করায় তাপস বাদী হয়ে আমার ও আমার পরিবারের বিরোদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় আসামী হয়ে এখন পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবতার জীবন যাপন করছি।
পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আজ ৯ নভেম্বর শনিবার দুপুরে আমার বসত বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র সজ্জিত হয়ে বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট ভাংচুর করে। দোকানের কর্মচারীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে ক্যাশে থাকা নগদ দুই লক্ষ একত্রিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরক্ষণে দোকানের কর্মচারীরা ডাক-চিৎকার শুরু করিলে বিবাদীগণ আরো খুন-জখম করিবে বলিয়া হুমকি দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর ঘরের মধ্যে খাবারে বিষ প্রয়োগ করে এবং দোকান ছাই দ্বারা খাবার বিনষ্ট করে চলে যায়।
উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী কামাল মিয়া বাদী হয়ে, ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্ব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, অভিযোগ এফআইআর ভুক্ত হলে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।